ইন্ডিয়ান ভিসা করতে কি কি লাগে – এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেক বাংলাদেশি ভ্রমণকারী। ভারত ভ্রমণ, চিকিৎসা বা ব্যবসায়িক কাজে যাওয়ার জন্য সঠিক প্রস্তুতি নিলে প্রক্রিয়াটি সহজ হয়ে ওঠে। ভারত সরকারের ই-ভিসা সিস্টেম আরও উন্নত হয়েছে, যা অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এই নির্দেশিকায় বিস্তারিত জানুন কাগজপত্র, ফি এবং টিপস, যাতে আপনি নিজে প্রসেসিং করতে পারেন।
Table of Contents
ইন্ডিয়ান ভিসা প্রসেসিং ও ইন্ডিয়ান ভিসা করতে কি কি লাগে
ভারতের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ বা উন্নত চিকিৎসা সুবিধা আকর্ষণ করে বাংলাদেশিদের। ইন্ডিয়ান ভিসা প্রসেসিং শুরু করতে প্রথমে অফিসিয়াল পোর্টাল indianvisaonline.gov.in বা বাংলাদেশের জন্য নিবেদিত ivacbd.com ভিজিট করুন। এখানে ই-ভিসা ক্যাটাগরি নির্বাচন করে ফর্ম পূরণ করতে হয়।
প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে এগোয়: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, ডকুমেন্ট আপলোড, ফি পেমেন্ট এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং। আবেদন জমা দেওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম বা অন্যান্য ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (IVAC) বায়োমেট্রিক্স এবং ইন্টারভিউ দিতে হয়। সাধারণত ৭-১৫ দিনের মধ্যে ভিসা ইস্যু হয়, তবে সঠিক ডকুমেন্ট থাকলে দেরি কম। ডিজিটাল সিস্টেমের কারণে ট্র্যাকিং সহজ হয়েছে।
ইন্ডিয়ান টুরিস্ট ভিসা করতে কি কি লাগে
টুরিস্ট ভিসা দিয়ে তাজমহল বা কেরালার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে প্রস্তুতি নিন। ইন্ডিয়ান টুরিস্ট ভিসা করতে কি কি লাগে – মূলত বৈধ ডকুমেন্ট এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ।
- পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদসম্পন্ন, খালি পৃষ্ঠা সহ।
- ছবি: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ২x২ ইঞ্চি, সাম্প্রতিক।
- আর্থিক প্রমাণ: ব্যাংক স্টেটমেন্টে ন্যূনতম ১৫০ ডলার সমতুল্য টাকা (শেষ ৩ মাসের)।
- আবাসিক প্রমাণ: ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ/গ্যাস) বা ভাড়া চুক্তি।
- পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত কপি।
- ভ্রমণ পরিকল্পনা: হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকিট এবং ইটিনারারি।
- পেশাগত প্রমাণ: চাকরিজীবী হলে NOC বা বেতন স্লিপ; শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড।
- অনলাইন ফর্ম: পূরণকৃত প্রিন্টআউট সহ ইমেল অ্যাকাউন্ট।
এগুলো স্ক্যান করে আপলোড করুন। অতিরিক্ত টিপ: ভ্রমণের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করলে অনুমোদন দ্রুত হয়।
আরও জানতে পারেনঃ ইউরোপের কোন কোন দেশের ভিসা চালু আছে?
ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসা করতে কি কি লাগে
চিকিৎসার জন্য আপোলো বা ফোর্টিস হাসপাতালে যাওয়া সাধারণ। ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসা করতে কি কি লাগে – ফোকাস মেডিকেল রেফারেলে।
- পাসপোর্ট এবং ছবি: টুরিস্ট ভিসার মতো।
- মেডিকেল ডকুমেন্ট: বাংলাদেশি হাসপাতালের রেফারেল লেটার এবং ভারতীয় হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার।
- আর্থিক সক্ষমতা: ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট (১৫০ ডলার+ চিকিৎসা খরচ কভার)।
- পরিচয়পত্র: NID বা জন্ম সনদ।
- অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন: ফর্মে চিকিৎসার বিবরণ উল্লেখ।
- অ্যাটেন্ডেন্ট ভিসা: সঙ্গী থাকলে তাদের ডকুমেন্ট (সর্বোচ্চ ২ জন)।
টেলিমেডিসিন রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য। চিকিৎসা খরচের এস্টিমেট যোগ করলে প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
ইন্ডিয়ান ভিসা করতে কত টাকা লাগে
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য আবেদন ফি মওকুফ। তবে IVAC সার্ভিস চার্জ প্রায় ৮০০-১০০০ টাকা (ভিসা টাইপভেদে)। পেমেন্ট ব্যাংক ড্রাফট বা অনলাইনে।
এজেন্সি ব্যবহার করলে ২,০০০-১০,০০০ টাকা অতিরিক্ত, কিন্তু নিজে করলে সাশ্রয়। মেডিকেল ভিসায় অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চেকিং ফি থাকতে পারে। সর্বশেষ রেট ivacbd.com-এ চেক করুন।
বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়া যেতে কত টাকা লাগে
ভিসা ছাড়াও যাতায়াত খরচ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়া যেতে কত টাকা লাগে – মাধ্যমভেদে ভিন্ন।
- ট্রেন: ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ৪,০০০-৮,০০০ টাকা (ক্লাসভেদে)।
- বিমান: ঢাকা-দিল্লি/কলকাতা ৭,০০০-১৪,০০০ টাকা (সিজনভেদে)।
- বাস: বেনাপোল বর্ডার হয়ে ২,০০০-৫,০০০ টাকা।
অ্যাডভান্স বুকিং করলে সাশ্রয়। ভিসা + যাতায়াত মিলিয়ে বাজেট ১৫,০০০-৩০,০০০ টাকা।
শেষ কথা
ইন্ডিয়ান ভিসা করতে কি কি লাগে জেনে নিজে প্রসেসিং করুন – সময় ও অর্থ বাঁচবে। অফিসিয়াল সাইট ব্যবহার করে ভুল এড়ান এবং ভ্রমণ উপভোগ করুন। আরও তথ্যের জন্য IVAC যোগাযোগ করুন। নিরাপদ যাত্রা!